শিশু শিক্ষায় শিক্ষকের ভূমিকা ꡶ Role of teacher in child education

 

Role of teacher in child education
Role of teacher in child education

শিশু শিক্ষায় শিক্ষকের ভূমিকা ꡶ Role of teacher in child education


আসসালামু আলাইকুম

শিল্পির কাজ হলো ভাবনা, রং ও তুলি দিয়ে ছবি এঁকে সেই ছবিতে সৌন্দর্য বা নান্দনিকতা ফুটিয়ে তোলা। আর একজন শিক্ষকের কাজ হলো একজন মানব শিশুকে পরিপূর্ণ মানুষ হতে ভূমিকা রাখা । একজন শিক্ষকই কাদা মাটির জিনিস তৈরির মত একজন মানব শিশুকে দৈহিক, মানসিক, সামাজিক, মানবিক, আবেগিক, নৈতিক, আধ্যাত্মিক ও নান্দনিক বিকাশ সাধন করে তাকে নিজ লক্ষ্যে পৌছাতে সাহায্য করে। সেজন্য শিক্ষকতাকে নবুয়্যতি পেশাও বলা যায়।

কোনো শিক্ষার্থীকে যদি প্রশ্ন করা হয় যে বিদ্যালয়ের কোন জিনিসটি তার শিখনে সাফল্য বয়ে আনে? এর উত্তর অবশ্যই হবে না যে কোন ভালো বই বা ভিডিও স্লাইড। এই প্রশ্নের উত্তরে আসবে কোনো স্যার বা কোনো ম্যাডামের নাম। একজন শিক্ষকের সাথে তার ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পর্ক হবে টেলিপ্যাথিক রিলেশনশীপের মত। মা ও সন্তানের মত। একজন যেমন তার সন্তানের মুখের দিকে তাকালে বুঝতে পারে তার সন্তান খেয়েছে কিনা, তার সন্তানের অন্য কোনো সমস্যা আছে কিনা, একজন শিক্ষকে সেরকম হতে হবে। শিক্ষার্থী যেন তার শিক্ষকের ওপর সেরকম আস্থা রাখতে পারে, যাতে সে যে কথা তার বাবা মার সাথে শেয়ার করতে না পারে তা যেন তার শিক্ষককে নির্দিধায় বলতে পারে। সেজন্য একজন শিক্ষককে অসীম ধৈর্যের অধিকারি হতে হবে। শিশুদের সাথে সবসময় হাসি খুশি থাকতে হবে। বিভিন্ন কাজে শিশুদের সহায়তা করতে হবে। তাদের মতামতের গুরুত্ব দিতে হবে। শিশুদের সাথে শিশু সুলভ আচরণ করতে হবে।

প্রতিটি শিশুই ভিন্ন ভিন্ন পরিবার এবং পরিবেশ থেকে আসে। একজন শিক্ষকের উচিত প্রতিটি শিক্ষার্থীর আচার আচরণ ও তাদের পারিবারিক অবস্থা, বাবা-মায়ের মধ্যে কেমন সম্পর্ক তা জানা। এছাড়াও সব শিশু সমান মেধার অধিকারী হয় না। শিক্ষক যদি তার শিক্ষার্থীর প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে ধারণা রাখে তাহলে প্রতিটি শিক্ষার্থীই একদিন হয়ে উঠবে এক একটি প্রস্ফুটিত ফুল। আর এজন্য শিক্ষককে হতে হবে আত্মপ্রত্যয়ী। 

একজন শিক্ষককে শিক্ষাদানে হতে হবে যথেষ্ট কৌশলী। কারণ শিশুরা বহুমুখী বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হয়ে থাকে। যেমন:   

ক) মৌখিক ও ভাষাতাত্ত্বিক বুদ্ধিমত্তা: যে শিশুর এ বুদ্ধিমত্তা প্রবল সে শোনা, বলা ও পড়ার মাধ্যমে সহজে শেখে।

খ) যৌক্তিক ও গানিতিক বুদ্ধিমত্তা: যে শিশুর এ বুদ্ধিমত্তা প্রবল সে সংখ্যা, নকশা, যুক্তি প্রয়োগ ইত্যাদির মাধ্যমে সহজে শেখে।

গ) অনুভূতি ও শারীরিক বুদ্ধিমত্তা: এই বুদ্ধিমত্তার অধিকারি কলা কৌশল ও অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে সহজে শেখে।

ঘ) ছন্দ ও সংগীত মূলক বুদ্ধিমত্তা: এসব বুদ্ধিমত্তার অধিকারি শিশুরা ছন্দ ও ধ্বনির তালে তালে সহজে শেখে।

ঙ) আন্তঃব্যক্তিক বুদ্ধিমত্তা: যে শিশুর এই বুদ্ধিমত্তা প্রবল সে দলে কাজ করে সহজে শেখে। 

বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে শিখন শেখানো কার্যক্রম পরিচালনা করলে শিশু শিক্ষার্থীরা তা দ্রুত আয়ত্ব করতে পারবে। একজন শিক্ষক পড়া লেখাকে পড়া খেলায় পরিণত করতে পারে খুব সহজে, যদি তার মধ্যে থাকে আন্তরিক প্রচেষ্ঠা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। এজন্য একজন শিক্ষককে প্রতিনিয়ত পড়ালেখা করতে হবে। শিক্ষক যে বিষয়ের ওপর পাঠদান করবে, সে বিষয়ের ওপর শিক্ষকের পরিপূর্ণ ধারণা থাকতে হবে। কারণ শিশু মন যথেষ্ঠ কৌতুহলী। তাদের মনে নানা রকম প্রশ্ন থাকতে পারে, সব প্রশ্নের উত্তর হাসি মুখে দিতে হবে শিক্ষককে। লেখাপড়ার পরিবেশে মাঝে মাঝে পরিবর্তন এনে, বিভিন্ন রকম শিক্ষা উপকরণ দিয়ে, খেলার সামগ্রী ব্যবহার করে এমনকি ক্লাস রুটিনে পরিবর্তন এনে লেখা পড়ার একঘেয়েমি দূর করতে পারে একজন শিক্ষক। শিশু শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট নৈতিক গল্প শোনাতে হবে যাতে তাদের নৈতিকতাবোধ অনেক বেশি মজবুত হয়। মনে রাখতে হবে আজকের শিশু এক একটি চারাগাছ সঠিক যত্ন ও পরিচর্যার মাধ্যমে এরাই হয়ে উঠবে এক একটি বৃক্ষ। আর এর পেছনে শিক্ষকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর এর ফল একজন শিক্ষক শুধুমাত্র দুনিয়াতেই পাবেন না পাবেন আখিরাতেও।

আমরা আপনাদের বুঝাতে চেয়েছি একজন শিশু শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষকের মধ্যে কেমন হওয়া উচিত। যদি বুঝাতে পারি এটাই আমাদের উদ্দেশ্য। আসলে একজন ভালো শিক্ষক যদি তার শিখনকে তার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে পারে তাহলে শিক্ষিত ও পরিমার্জিত জাতি হিসেবে বিশ্বের মাথা উঁচু উপরের দিকে ধাবিত হবে। তাই আমরা প্রতিটি শিশুকে তাদের মেধা অনুযায়ী পরিচর্চা করতে পারি এ কামনায় করি। 


সংগ্রহে: আনাসটেক বাংলা

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url