ছবি আঁকার সহজ উপায় ꡶ Easy way to draw pictures

 

Easy way to draw pictures
Easy way to draw pictures

ছবি আঁকার সহজ উপায় ꡶ Easy way to draw pictures

 

আসসালামু আলাইকুম

আর্ট এর বাংলা শিল্পকলা। শিল্পকলা এমনই একটি বিষয় যা শিশুদের আচার-আচরণ, কথাবার্তা চালচলন, প্রতিনিয়ত বা প্রতি মুহুর্তে আমাদের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পাচ্ছে। শিশুদের ও ছোটদের কাগজ-পেন্সিল ও রং তুলির ব্যবহার শেখার পাশাপাশি প্রত্যাহিক জীবনে সকল কাজের মধ্যে যেমন কথাবার্তা, আচার-ব্যবহার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, খাওয়া-দাওয়া, পোশাক পরা ইত্যাদি বিষয়গুলি শিল্পকলা বা আর্টেরই অংশ। নৈতিক শিক্ষায় শিশুকে শিক্ষিত করতে হলে আর্ট বা শিল্পকলা চর্চার প্রয়োজন। একথা আমরা আস্থার সাথে বলতে পারি যে, ছবি আঁকা মানুষকে সুন্দর হতে শেখায়।

শিশু ও ছোটরা ছবি আঁকবে তাদের ইচ্ছামত। শিশু ও ছোটদের ছবি আঁকার জন্যে কোন ধরা বাঁধা নিয়মের প্রয়োজন নেই। তারা যা ভাবে, যখন যা ইচ্ছে রং, লেখায় কাগজটা ভরে তুলতে পারলেই হল। ছোটদের আঁকা কখনো বয়স্ক শিল্পীদের মত হবে না। ছোটদের আঁকার একটি চরিত্র বা আলাদা রূপ থাকে। তাদের আঁকা ঘরবাড়ি, গাছপালা, নদী  নৌকা সব কিছুই হয় শিশুসুলভ ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আঁকার পরিবর্তনও ঘটে। এ সময় তাদের ছবি আঁকার কিছু সাধারণ নিয়ম, কলা-কৌশলগুলি রপ্ত করাতে হবে। যে কয়টি সাধারণ নিয়ম রপ্ত করতে হয় তা হল আকৃতি, গঠনসহ ড্রইং দূরত্ব, অনুপাত, আলোছায়া, বিষয় সাজানো ও রঙের ব্যবহার।

আকৃতি ও গঠনসহ ড্রইং:

আমাদের চারপাশে যে সব ঘরবাড়ি, গাছপালা নদী-নৌকা প্রভৃতি জিনিস রয়েছে তা ভাল করে দেখ, দেখতে কেমন, আসল রূপটি কেমন। ভাল করে দেখলে বুঝা যায় প্রকৃতির সব জিনিসই তিনটি আকৃতি বা আদলের মধ্যে ধরে রাখা যায়। এই তিনটি আকৃতি হল গোলাকার আকৃতি, চারকোণা আকৃতি ও তিনকোণা আকৃতি। যে জিনিস আঁকাবে বা যার ছবি আঁকাবে তার আদল ও রূপ এই তিনটি আকৃতির কোনটির সাথে মিলে যায় তা ঠিক করে ধীরে ধীরে ড্রইং শুদ্ধ করে নিতে হবে।

দূরত্ব ও অনুপাত:

যে কোন ছবির সামনে-পেছনে, কাছে-দূরে ও আকারে ছোট-বড় এবং পাশাপাশি অবস্থান ইত্যাদির গুরুত্ব থাকে। মনে কর একটি ছবি, যেখানে নদী-নৌকা, গাছ-পালা, মানুষ রয়েছে। মানুষ অনুপাতে নৌকা কত বড়, তার সাথে গাছ থাকলে সেটা কত বড় হওয়া প্রয়োজন ভেবে-চিন্তে ঠিকমত আঁকতে হবে। ছোট ও বড় বস্তুর তারতম্য বা অনুপাত ঠিকমত তুলে ধরতে হবে।

আলোছায়া:

ছবি আঁকতে আলোছায়ার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছবিতে আলোছায়া ঠিকমত ফুটিয়ে তুলতে হয়। প্রকৃতিতে এবং আমাদের চারপাশে যে সব বস্তু ও সামগ্রী রয়েছে তাতে আলোছায়ার কারণে নানা রকম রূপ ফুটে ওঠে এবং এই রূপের আবার পরিবর্তন ঘটে। যেমন সকালে এক রকম আলোছায়া, দুপুরে অন্য রকম কড়া রোদের ছায়া কড়া, বিকেলে নরম রোদ, ছায়াও তেমন। আঁকার সময় আলোছায়াকে মোটামুটি তিন স্তরে ভাগ করে নিলে ছবি আঁকার সুবিধা হয়। তাহলে নিশ্চয় বুঝতে পারছ একটি সুন্দর ছবি আঁকার জন্যে কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয়। তবে মূল দিকটি হল যে বিষয় আঁকবে সে বিষয় সম্পর্কে ভালভাবে জেনে নেবে, দেখে নেবে এবং বুঝে নেবে। আঁকার সময় হতে হবে সহজ ও সাহসী। দ্বিধা ও ভয়কে দূরে সরিয়ে রেখে ইচ্ছামত রং লাগাবে। ছবি আাঁকাটা হবে তোমার কাছে একটা মজার খেলা এবং আনন্দের কাজ।

ছবির বিষয় সাজানো:

ছবির বিষয় যদি হয় গ্রামের দৃশ্য। দৃশ্যে থাকবে ঘর-বাড়ি, গাছ-পালা, উঠান, দূরের গ্রাম, আকাশ, মাঠ ইত্যাদি। এগুলি কাগজে কোনটা কোথায় আঁকবে, ছবিটি একটি সুন্দর গ্রামের দৃশ্য হিসেবে দাঁড় করাবে। সুন্দরভাবে সাজিয়ে আাঁকা-ই হল ছবির বিষয় সাজানো। বিষয়টি চার/পাঁচ রকমভাবে সাজিয়ে দেখে নিলে ভাল হয়। যেটা নিজের কাছে সুন্দর মনে হবে সেটাই ড্রইং করবে।

রঙের ব্যবহার:

রঙের ব্যবহার শিখতে হলে হাতে-কলমে শিখতে হয়। শুধু বই পড়ে রঙের ব্যবহার শেখা যাবে না। বার বার ছবি এঁকে নানা রকম রং লাগিয়ে রঙের ব্যবহার রপ্ত করে নিতে হবে। আঁকার শুরুতে অবশ্যই শিল্পী শিক্ষকের কাছ থেকে হাতে-কলমে রং কত রকমভাবে ব্যবহার করা যায় তা ভালভাবে শিখে নিবে। প্রাথমিক রং হলুদ, লাল ও নীল। মাধ্যমিক রং কমলা, সবুজ, বেগুনি ইত্যাদি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক রং মিশিয়ে অন্যান্য প্রয়োজনীয় রং তৈরী করা যায়। ছবি আঁকার বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে যেমন পেন্সিল স্কেচ, প্যাস্টেল রং, জল রং, পোস্টার রং, তেল রং ইত্যাদি।

এবার ছবি আঁকার কয়েকটি উপকরণের কথায় আসি:

ছবি আঁকার উপকরণ বলতে আমরা কাগজ, পেন্সিল, কালি, কলম, তুলি, বোর্ড, ক্লীপ, ইজেল ইত্যাদিকে বুঝাই।

কাগজ:

যে কোন কাগজে ছবি আঁকা যায়, তবে মোটা ও সামান্য খসখসে কাগজ ছবি আঁকার জন্যে উপযোগী। পেন্সিলে ছবি আঁকার জন্যে প্রয়োজন একটু মোটা ও সামান্য খসখসে ধরণের কাগজ। প্যাস্টেল ও জল রং এই দুটোর মাধ্যমে ছবি আঁকতে হলে অবশ্যই কাগজ হবে মোটা ও খসখসে। জল রং করার জন্যে এক ধরণের বিশেষ কাগজ পাওয়া যায় তার নাম হ্যান্ডমেড পেপার।

পেন্সিল:

সাধারণ লেখা ও ড্রইং এর জন্যে রয়েছে এক ধরণের পেন্সিল যা আমরা সচরাচর ব্যবহার করে থাকি। ছবি আঁকার পেন্সিল আলাদাভাবে তৈরী হয়ে থাকে। পেন্সিলের গায়ে লেখা থাকে HB, 2B, 3B, 4B, 5B, 6B ইত্যাদি। সাধারণত লেখার পেন্সিল হল HB ও 2B। এগুলোর শীষ একটু শক্ত এবং কাগজে গাঢ় হয়ে দাগ কাটে না। অন্যগুলোর শীষ মোটা ও নরম। এগুলো দিয়ে ছবি আঁকা খুব সহজ।

কালি কলম:

কলম দিয়ে আমরা লিখি। কলম দিয়েও ছবি আাঁকা যায়, ঝর্ণা কলমে কালি দিয়ে সুন্দর ছবি আঁকা যায়। আবার বাঁশের কঞ্চি দিয়ে সরু ও মোটা কলম বানিয়ে কালিতে চুবিয়ে চুবিয়ে তা দিয়ে ছবি আঁকা যায়।

তুলি:

ছবি আঁকার জন্যে তুলি হল প্রধান হাতিয়ার। বিভিন্ন ধরণের রং কাগজ ও ক্যানভাসের কারণে নানা রকম তুলি তৈরী হয়ে থাকে। আঁকার জন্যে তুলি সরু থেকে ধীরে ধীরে মোটার দিকে ১নং থেকে ২০ নং পর্যন্ত হয়ে থাকে।

বোর্ড, ক্লীপ ও ইজেল:

ছবি আঁকার জন্যে র্বোড, ক্লীপ ও ইজেল এর প্রয়োজন হয়। এতে ছবি আঁকাতে সুবিধা হয়। আর এই বোর্ডে ক্লিপ দিয়ে কাগজ আটকিয়ে, কেউ মেঝেতে বসে, হাতে রেখে, টেবিলে বসে আবার অনেকে ইজেলে রেখে ছবি আঁকে।

পরিশেষ:

শিশুরা কেন আর্ট শিখবে? ছবি আঁকা শিশুর মনের ভাব ও আবেগকে প্রকাশ করে। শিশুর আঁকাকে কখনো বাধা দেয়া উচিৎ নয়। এতে শিশুর স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি বাধাগ্রস্ত হয়। আঁকার মাধ্যমে শিশু তার হাত ও চোখকে এক সঙ্গে ব্যবহার করতে শেখে। আর্ট শেখার বিশেষ উপকার হলো এ শিক্ষা মনের ভাব প্রকাশের ক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করে। এ শিক্ষা শিশু মনে বিপুল আনন্দের সৃষ্টি করে। মন সদা প্রফুল্ল এবং আনন্দে ভরপুর থাকে। জীবনকে সুন্দর ও সুষ্ঠুরূপে গড়ে তোলার জন্যে ছবি আঁকার দরকার। 

আঁকাআঁকির মাধ্যমে শিশুর মানসিক বিকাশ লাভ হয়। শিশুর চঞ্চলতা হ্রাস পায় এবং তাদের মনোযোগ গভীর হয়। আঁকা-আঁকি শিশুর ভবিষ্যৎ জীবনের নানা শাস্ত্র অধ্যয়নেও বিশেষভাবে সাহায্য করে। যেমন চিকিৎসা শাস্ত্রে, প্রকৌশলীবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, ভূ-বিজ্ঞান, ইতিহাস ও গণিত প্রভৃতি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ভাল ফল অর্জন করে। সৃজনশীল শিশুরা জীবনের যেকোন ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ সাফল্য লাভ করে যা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত সত্য। আর তাই শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশের যেকোন মাধ্যমকেই উৎসাহিত করা খুবই জরুরী।    

 

সংগ্রহে: আনাসটেক বাংলা

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url