হিমির অধরা স্বপ্ন ꡶ Himis elusive dream
![]() |
Himis elusive dream |
আসসালামু
আলাইকুম
শীতের
প্রচণ্ড কাঁপুনিতে ঘুম ভাঙে হিমির। প্রতিদিনের
ন্যায় সে শুনতে পায়
বাইরের কোলাহল। হঠাৎ
কোলাহলটা তার কাছে কেমন যেন অস্বাভাবিক মনে হয়। অনেক
কষ্টে সে বিছানা ছেড়ে
ওঠে। এরই
মধ্যে দেখতে পায় বাবাকে কয়েকজন ধরাধরি করে বসাচ্ছে, কেউ বা ছুটছে পানির
খোঁজে, কেউ বা লোকজন ডাকছে। মাঘের
শীতের কাঁপুনি ইতোমধ্যে হিমির শরীর থেকে বিদায় নিয়ে নতুন এক তাপদাহের সৃষ্টি
করেছে। ছোট্ট
হিমি। বাবা-মা, ভাই-বোনের বড্ড আদরের। সে
বুঝে উঠতে পারেনা কী হয়েছে বাবার!
যাই হোক দিনশেষে হিমি দেখে বাবা কেমন চোখে সবার দিকে চেয়ে আছে। এমনকি
হিমির চোখেও চোখ পড়ে। সে চোখের ভাষা হিমি বুঝতে পারে না। ছোট্ট
হিমির বুকের মধ্যে নাড়া দিয়ে উঠে, বাবা তো এভাবে কোন
দিন তাকায়নি তার দিকে। অপলক
চোখে চেয়ে আছে। মনে
হচ্ছে হিমিকে দেখে বাবার মন জুড়াচ্ছে না,
বা এটাই তার শেষ দেখা। মায়ের
মুখটাও কেমন যেন পাংশু দেখাচ্ছে। ছোট্ট
হৃদয়ে অতর্কিত ব্যথা অনুভব করে হিমি। বাবার
কোলে গিয়ে বসে বাবাকে জড়িয়ে ধরে আদর করে। রমজান
মাস প্রায় শেষ হতে চলেছে। বাবার
সবাইকে নিয়ে ঈদের পোশাক কিনতে যাওয়ার কথা ছিল হঠাৎ শরীর খারাপ লাগায় তা আর হল
না। বাবা
অসুস্থ শরীরেও মেয়েদের নতুন জামাকাপড় কেনার স্বপ্ন দেখছে। অথচ
কেউই জানতে পারছে না সবাইকে ফাঁকি
দিয়ে অন্য কোন গ্রহের স্থায়ী বাসিন্দা হতে চলেছে বাবা।
মানুষ
বাস্তবিক জীবনের অন্তিমমুহূর্তেও স্বপ্ন দেখে, দেখে তার অবর্তমানে আপনজনেরা কীভাবে সমস্ত বাধা অতিক্রম করে সুখে থাকবে। এজন্য
সে তখন বিশ্বস্ত কাউকে খোঁজে যার হাতে অচিরেই স্বজনদের দেখভালের কথা আকার ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিতে পারে। হিমি
রাতে প্রতিদিনের মতোই বাবার রুমে অন্য খাটে ঘুমিয়ে থাকে। সেহরির
আগ মুহূর্তে মায়ের চিৎকার শুনে হিমির ঘুম ভাঙে। দেখে
বাবা কেমন যেন করছে। বাবা
হঠাৎ আধা বসা অবস্থা থেকে শুয়ে পড়ে। হিমি
খাট থেকে লাফ দিয়ে নেমে বাবার কাছে যায়। মা উচ্চ স¦রে চিৎকার
করে কেঁদে ওঠে, ওরে কে কোথায় আছিস,
জলদি আয়! পরক্ষণেই ভাই-ভাবি, চাচা-চাচিসহ প্রতিবেশিরা ছুটে আসে। হিমি
কিছু বোঝে না। শুধু
দেখে সবাই বুক ফাটিয়ে কাঁদছে। শামসুল
চাচা বলছেন, আর নেই! ভালো
করে শুয়াইয়া দাও। তারপর
বাবাকে সবাই চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিল। কিন্তু
সবাই কাঁদছে তাই হিমি বুঝে না বুঝেই কাঁদতে
থাকে। সকাল
হতেই আত্মীয়স্বজনেরা হিমিদের বাড়িতে ভিড় জমায়। হিমি
সবাইকে দেখে খুশি হয়। বড় বোনের শ্বশুরবাড়ি দূরে হওয়ায় তার আসতে দেরি দেখে হিমি রাস্তার পাশে এগিয়ে যায় কখন আসবে আপু।
হিমির
বয়সী অন্যান্য ছেলেমেয়েদের সাথে সে নদীর ধারে
ছুটাছুটি করে। ভ্যান,
ঘোড়ার গাড়ি করে কোন আত্মীয় এলে সে ছুটে তাদের
কাছে ছুটে যেতে থাকে। তাদের
মধ্যে কেউ কেউ হিমিকে কোলে নিচ্ছে, কেউবা দিচ্ছে খেঁজুরের পাটালি বা নতুন ধানের
চিড়া। হিমির
এতসব আয়োজন ভালো লাগছে না। এরই
মধ্যে একজন বলল, ইস!! মেয়েটা আজ থেকে আর
বাবা বলে ডাকতে পারবে না। হিমি
ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে বাবার দিকে। তার
বাবা তো সাদা কাপড়
পড়ে কী সুন্দর ঘুমিয়ে
রয়েছে। তাকে
সবাই বাবার কাছে নিয়ে যায়। হিমি
বাবাকে ডাকে- ও বাবা, ওঠো
না, দ্যাখো আমাদের বাড়িতে কত মানুষ এসেছে,
বড় আপুও এসেছে। ও
বাবা, তুমি উঠছো না কেন? ঠিক
আছে বাবা, আমি আর ঈদের জামা
চাইব না, আপুর সাথে মারামারিও করবো না। ও বাবা, তুমি উঠছো না কেন? বাবা,
বা বা! তার পরেও বাবা হিমির কথায় সাড়া দেয় না, কোলে তুলে আদর করে না। বাবার
আর ঘুম ভাঙে না। এরই
মধ্যে হিমির চোখের সামনে থেকে বাবাকে নিয়ে সবাই চলে যায়। তখন
গাছপালা, পশুপাখি, প্রকৃতি এবং মানুষের ক্রন্দন ধ্বনিতে বাড়িটা বিষাক্ত হয়ে ওঠে। দুপুর
গড়িয়ে পরিশ্রান্ত বিকেলে যে যার বাড়ির
উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। প্রকৃতির
গতানুগতিক নিয়মেই আলোর অবসান ঘটিয়ে নবসাজে আবির্ভূত হয় গাঢ় অন্ধকার। যে
অন্ধকারের সারথি হিমি ও তার মা।
নারীজীবনের
অমূল্য সম্পদ হারিয়ে মা আজ দিকভ্রান্ত। অন্ধকারের
ভয়াল থাবায় মা ডুকরে কেঁদে
ওঠে। সাথে
হিমিও কাঁদে, এভাবে অবিরাম বর্ষণ চলতে থাকে। কেউ
সে বর্ষণের সাড়া পায় না। হিমি
মায়ের চোখের জল মুছে দেয়
এবং বলে, কেঁদো না মা- আমি
তো আছি। বাবা
হিমিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতো। এখন
সে স্বপ্ন পূরণে সে বদ্ধ পরিকর। বাবা
হারানোর বেদনা হিমিকে দগ্ধ করে। দিনে
দিনে সে পৃথিবীকে নতুনরূপে
চিনতে পারে। কখনও
কখনও তাদের মনে হয় এই বুঝি
সব শেষ হয়ে গেল! আর হয়তো নবদিনে
নবচাঁদের আলো তারা দেখবে না। নিকষ
কালো অন্ধকার বারংবার ঘুরে ফিরে হিমির অস্থিমজ্জায়। প্রতিকূলতার
আগ্রাসন এড়িয়ে নীরবে পথ চলে সৈনিকদ্বয়। তাদের
একমাত্র সম্পদ মনের জোর। বয়স
যত বাড়তে থাকে বাবার জন্য হিমির কষ্ট আরও তীব্র হয়। স্কুল
শেষে যখন সহপাঠীদের বাবা তাদের আকড়ে ধরে তখন হিমির ভেতরটা কেমন শূন্য হয়ে যায়। ঈদের
খুশিতে সবাই যখন মেতে ওঠে হিমি তখন নতুন পোশাকের অভাব এবং মায়ের কষ্টের দৃশ্য দেখে আরও বেশি করে পড়ালেখা করে। কৃতীর্তে¦র সাথে এস.এস.সি তে
ভালো রেজাল্ট করে দেশের একটি স্বনামধন্য কলেজে ভর্তি হবার সুযোগ পায়।
এমনকি
ঢাকা ভার্সিটির স্টুডেন্ট হয়েও ডিপার্টমেন্টে ভালো ফলাফল করে শিক্ষাজীবন শেষ করে। হিমির
সফলতায় মা মহা খুশি
হন এবং নব নব স্বপ্নের
মালা গাঁথে। হিমিও
মাকে নিয়ে বাসনার পসর বুনে, প্রতীক্ষায় থাকে কবে মায়ের সব কষ্ট দূর
করে কল্পনার সর্বোচ্চ সাম্রাজ্যে বসাবে মাকে। মায়ের
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার তেমন সুযোগ হয়নি তাই চাকরি সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই। শুধু
জানে মেয়ে তার বড় অফিসার হয়ে
বাবার মুখ উজ্জ্বল করবে। হিমিও
মায়ের সব কষ্ট মুছে
ফিরিয়ে দিতে চায় সুখ সাম্রাজ্য। পড়ালেখার
জন্য হিমিকে মাকে ছেড়ে শহরে একাকী থাকতে হয়। প্রত্যহ
মা ফোনে বলে, পাড়ার সব অল্প পড়–য়া ছেলেমেয়েদের চাকরি
হয়ে গেল, তোমার কবে হবে? হিমি বলে মা, এই তো- আর
ক’টা দিন! তবুও
মায়ের কণ্ঠ কেমন শুকনো লাগে। হিমি
মাকে বুঝিয়ে বলে, তোমার হিমি তো ওদের মতো
ছোটখাট চাকরি করতে পারবে না। অনেক
বড় অফিসার হবে- একথা শুনে মা আশ্বস্ত হয়,
সেও যেন দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে। অত:পর একটি ভালো
চাকরির জন্য হিমির ডাক আসে। মা কয়েকদিন হল খুব তাগাদা
দিচ্ছে। বলছে,
তোর চাকরি আমি হয়তো দেখতে পারবো না। এজন্য
হিমি তার সর্বোচ্চ উজাড় করে দিচ্ছে অধ্যবসায়ে।
এরইমধ্যে
হঠাৎ একদিন ভোর বেলা মায়ের ফোন থেকে কল আসে। মা নাকি বেশ
অসুস্থ বোধ করছে! মাথা ঘুরছে, প্রেসারটা বাড়ছে কীনা! হিমি মাকে ডাক্তার দেখাতে বলে। মাঝেমধ্যে
এমন হলে ওষুধ খেলে ঠিক হয়ে যায়। ডাক্তার
পেসক্রিপশন দেয় অথচ কোন মানুষ পাওয়া যায় না বাজারে যাওয়ার। হিমি
ফোনে সব ব্যবস্থা করে
দেয়। সারাদিন
মায়ের সাথে যোগাযোগ রাখে এবং সন্ধ্যাবধি মাকে ওষুধ খাওয়ানো হয়। হিমি
মাকে বলে তোমার কী খুব কষ্ট
হচ্ছে? মা বলে এই
তো ওষুধ খেলাম এখন, সব ঠিক হয়ে
যাবে। আমাকে
নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না। তুমি
ভালোকরে পড়াশোনা কর। মায়ের
তখনও খুব কষ্টে ছিল তবুও সেটা হিমিকে জানায়নি কেননা সামনেই হিমির চাকরির পরীক্ষা। রাতে
ঘুমুতে যাওয়ার পূর্বে মায়ের সাথে আবারও কথা হয়। মায়ের
নাকি এখন কোন সমস্যা নেই, এখন সে দিব্যি ভালো
আছে।
সুতরাং
হিমি স্বস্তিতে ঘুমোতে যায়। কিন্তু
একি হচ্ছে? হিমির ভেতরটা কেমন আহাজারি করছে। মনে
হচ্ছে সমস্ত পৃথিবী আজ গুটিয়ে আসছে। শরীরের
কোন স্পন্দন সে পাচ্ছে না। ভেতরটা
হু হু করে কেঁদে
উঠছে। এমন
লাগছে কেন? হিমি আবারও কল করে জানতে
পারে মা এখন অবিরাম
ঘুমুচ্ছে। হিমি
সারারাত ভয়ংকরভাবে জেগে থাকে। এমন
রাত তার জীবনে কখনও আসেনি। ফজরের
আযানের পূর্বমুহূর্তে হিমির সমস্ত শরীর ছিন্নবিচ্ছিন্ন হতে থাকে। বুক
ফেটে কান্না বের হয়। কিছুতেই
সে নিজেকে ধরে রাখতে পারছে না। নানা
আজেবাজে চিন্তা তাকে ঘিরে ধরেছে। ভাবছে
সকাল হলেই বাড়ি চলে যাবে সে। মাকে
নিয়ে শহর থেকে ভালো ডাক্তার দেখাবে। এরই
মধ্যে মোবাইলের রিংটোন বেজে ওঠে। হিমির
সমস্ত পৃথিবী নিষ্প্রভ হয়ে যায়। ছোটবেলাকার
সেই রাতটির কথা তার স্মরণে আসে। একই
সময় যেন, হিমির হাত কাঁপছে। কোনমতে
ফোনটা কানের কাছে তুলে নেয় এবং বলে মা কেমন আছে?
অপর প্রান্ত থেকে বলে তোর মায়ের অবস্থা খুব খারাপ, তুই তাড়াতাড়ি বাড়িতে আয়। তখনই
সে রওয়ানা হয়। বুকফাটা
কান্না নিয়ে সে বাড়ির দিকে
দৌড়ায়, তার মায়ের কিছু হয়ে যাবে না তো? যেতে
যেতেই মায়ের সাথে কথা বলতে চায় অথচ কেউই মায়ের সাথে কথা বলিয়ে দেয় না। বলে
মা নাকি কথা বলতে পারছে না। হিমি
একটা গাড়ি ঠিক করে ভাবে ওই গাড়িতে করেই
সে মাকে শহরে নিয়ে আসবে। একমুূহূর্তও
দেরি করবে না। আকাশ
পানে চেয়ে দেখে সমস্ত আকাশ কালো মেঘে ঢেকে ফেলেছে এবং মনে হচ্ছে কঠিন তুফান হানবে।
হিমির
ভয় হয়, সে এই মেঘ
অতিক্রম করে মাকে নিয়ে ফিরতে পারবে তো? বাড়ির কাছাকাছি যতই আসছে ততই সে আল্লাহকে স্মরণ
করছে, মা যেন সুস্থ
থাকে। এরই
মধ্যে হিমি দেখতে পায় রাস্তায় কয়েকজন চাচা বলাবলি করছে বাঁশ কাটা হয়ে গেছে, ওদিকেও সব গুছিয়ে ফেলেছে-
এই শব্দ কানে যেতেই হিমি অসার হয়ে পড়ে। তার
হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়, বেহুশ বেশে সে এগিয়ে চলে
স্বপ্নের জোরে, কেননা মাকে নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন, আর স্বপ্ন পূরণের
সময়ও দ্বারপ্রান্তে। বাড়ির
মধ্যে ঢুকতেই নজরে পড়ে একটা লম্বা খাটিয়া! চমকে ওঠে হিমি-জোরে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে মা গো, তুমি
কোথায়? তোমার হিমি এসেছে, তোমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে। তোমার
স্বপ্ন পূরণের সময় যে হয়ে এসেছে
মা! ততক্ষণে মাকে নবসাজে সাজিয়ে ফেলেছে সবাই। সমস্ত
নূরের আলো মায়ের মুখে রূপায়িত হয়েছে। মাকে
জড়িয়ে ধরে সে পড়ে থাকে। কেউ
তাকে মায়ের থেকে টেনে নেয়না এমনকি সৃষ্টিকর্তাও মা-মেয়ের স্পর্শকাতরা
দেখে তামাম দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ বর্ষণ ঢেলে দিলেন।
বৃষ্টির ফোটা এসে মা এবং হিমির গায়ে পড়ছে তাতেও হিমি মাকে ছাড়ছে না। কয়েক ঘণ্টা নিরবে চলে মা-মেয়ের নিরব কথা। কারোর সাহস হচ্ছে না এই বন্ধন ছিন্ন করার। আম,সুপারি, নারকেলগাছসহ বাঁশঝাড়ও যেন তাদের হৃদ্যতা দেখে অঝোরে হেলে দুলে কাঁদছে এবং একে অপরের উপর আছড়িয়ে পড়ছে। এমন ঝড়ের তাণ্ডব নাকি কখনও কেউ দেখে নি। হিমির ন্যায় সমস্ত গাছপালা, বাড়ি ঘর, পশুপাখিও আজ চূর্ণবিচূর্ণ, ক্ষতবিক্ষত। সবকিছু হারিয়ে হিমি আজ পাগলপ্রায়। কয়েকদিনের মধ্যেই হিমি বড় অফিসার পদে চাকরিতে নিযুক্ত হয়। স্বপ্নগুলো একে একে ধেয়ে আসে, হিমির এখন অনেক সম্মান, অঢেল অর্থসম্পদ এবং জনবল। সাম্রাজ্য আছে তবে রানি নেই তাই হিমি আজ সুখ সাগরেও নিরব অশ্রু ফেলে।
আর কয়েকটা দিন মাকে ধরে রাখতে পারলেই স্বপ্ন গুলো বাসা বাধতো, সৃষ্টিকর্তার হিসাব নিকাশ হিমি বোঝে না, কেন এভাবে হিমিকে কাঁদায়? হিমির তো কোন অন্যায় নেই, এখন হিমির মায়ের সাথে স্বপ্নে কথা হয়, মা হিমির মন খারাপে সান্ত¦না দেয়, সুখের দিনে সঙ্গ দেয়।
তবে স্বপ্নটা শেষ হলে আর মাকে হিমি পায় না, হিমির এ কষ্ট পৃথিবীর কেউ বোঝেনা, এটা তার, শুধুই তার, মাকে হিমি ভীষণ ভালোবাসে, অন্ধকারে এখনও হিমি মায়ের গায়ের গন্ধ পায়, সে প্রতীক্ষায় থাকে রাতের, প্রতীক্ষায় থাকে অন্ধকারের, কেননা নিকষ অন্ধকারই হিমির অধরা স্বপ্নের বেলা।
হিমির মাধ্যমে আমরা আপনাদের বুঝাতে চেয়েছি যে, প্রত্যেক মানুষের একটি স্বপ্ন, আশা, ভরশা থাকে বা চাওয়া পাওয়া থাকে। সেই স্বপ্নটাকে আমরা উপস্থাপন করেছি। যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে হিমির অধরা স্বপ্ন গল্পটি তাহলে আমরা ধন্য। আশা করি আরো সুন্দর সুন্দর গল্প নিয়ে আমরা আবার হাজির হবো।
সংগ্রহে: আনাসটেক বাংলা