মানব জীবনে ইসলাম শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ꡶ Manob Jibone Islam Shikhkhar Proyjonieta

 

মানব জীবনে ইসলাম শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ꡶ Manob Jibone Islam Shikhkhar Proyjonieta

মানব জীবনে ইসলাম শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ꡶ Manob Jibone Islam Shikhkhar Proyjonieta 


আসসালামু আলাইকুম

পবিত্র আল কোরআন ও হাদিসের আলোকে মুসলিম জাহানকে মানব সমাজে শ্রেষ্ঠ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই জাতির মধ্যে যেসব শ্রেষ্ঠ গুণ রয়েছে যা তাকে যেসব গুণের অধিকারী করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে সত্য ও ন্যায় পরায়ণতা। সত্যের বিপরীত হচ্ছে মিথ্যা প্রবণতা ও অন্যায়কে অনুসরণ করা। হক ও বাতিল বা ন্যায়-অন্যায় এবং সত্য-মিথ্যা কখনো এক সাথে চলতে পারে না। সত্যপরায়ণতা যেমন একটি উন্নতর চারিত্রিক গুণ, তেমনি মিথ্যা একটি ঘৃণ্যতম মন্দ চারিত্রিক দোষ।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে অনাচার চরম আকার ধারণ করেছে। হত্যা, ধর্ষণ, দুর্নীতি, অন্যায়-অবিচার, সুদ-ঘুষ, প্রতারণা-প্রবঞ্চণা, অপহরণ ও মিথ্যাচার অতি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা নৈতিক সঙ্কটের নির্দেশক। সমাজের বৃহৎ অংশ যখন নৈতিকতা, মূল্যবোধ, ন্যায়পরায়ণতা, সততা ইত্যাদিকে বৃদ্ধাঙুলি প্রদর্শন করে এবং জুলম, নিপীড়ন, জবরদখল, শোষণ ও দুর্নীতিকে ভাগ্য পরিবর্তনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে তখন বুঝতে হবে নৈতিক সঙ্কট বিরাজমান। অন্য দিকে তথ্যপ্রযুক্তি তথা ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব, ইন্টারনেট এগুলোকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে, শুধু তরুণ-তরুণীরা নয়; বরং যেকোনো বয়সের ব্যক্তিরাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন সময় অতিক্রম করতে দ্বিধাবোধ করে না। এভাবে সর্বস্তরের ব্যবহারকারীরা ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় অপব্যবহারের দিকেও ঝুঁকে পড়ছে। বর্তমান নেট দুনিয়ায় পাবজি (প্লেয়ার আননোনস ব্যাটেল গ্রাউন্ড) নামক এক ধরনের ভিডিও গেম রয়েছে, যাতে কে কতজন হত্যা করল, কত পয়েন্ট পেল, জীবিতদের কিভাবে হত্যা করা যায়, এসবই হচ্ছে মূল আকর্ষণ। এ খেলায় কিশোর-কিশোরী ও যুবসমাজই বেশি জড়িত।

মানুষকে কল্যাণের দিকে ডেকে আনা, তাদের সৎকর্মে প্রবৃত্ত ও অসৎ কর্ম হতে নিবৃত্ত করার জন্য একটি উম্মতের একান্ত আবশ্যক। এই উম্মত বা প্রচারকমন্ডলীর পরিচয় অপর আয়াতে দেওয়া হয়েছে। তোমরা হচ্ছ শ্রেষ্ঠতম উম্মত যাদেরকে আভির্ভূত করা হয়েছে বিশ্ব মানবের হিতকল্পে তোমরা সঙ্গতের আদেশ দান করতে, অসঙ্গত হতে নিষেধ করতে থাকবে। বস্তুতঃ আহলে কেতাবগণ ঈমান আনলে তাদের পক্ষে মঙ্গলজনক হত। তাদের মধ্যে কিছু লোক হচ্ছে মোমিন আর তাদের অধিকাংশই অনাচারী। সত্য ও সঙ্গত যা কিছু, তা যাতে সর্বতোভাবে জয়যুক্ত হয়- উপদেশে, প্রচারে-আলোচনায় তার যথাসাধ্য চেষ্টা করা এবং অসত্য ও অসংগত যা কিছু, মানব সমাজকে তা হতে বিরত রাখার যথাসম্ভব প্রয়াস পাওয়া। এই দুইটি সাধনা হবে উম্মত হিসেবে তাদের প্রধান কর্তব্য। এই দুইটি দায়িত্ব পালনের সময় এই উম্মতগণ নিজেদের মন ও মস্তিষ্ককে পরিপূর্ণ করে রাখবে এটাও সঙ্গে সঙ্গে বলে দেওয়া হয়েছে। আদেশ-নিষেধ প্রচারে কর্তব্য পালন করতে যারা যাবে, তারা নিজেরাই যদি আল্লাহতে সত্যিকারভাবে বিশ্বাসী হয় অথবা অসত্য ও সঙ্গত সংস্কার দ্বারা সেই ঈমানকে আড়ষ্ট ও অবসন্ন করে ফেলে তা হলে এই গুরুতর কর্তব্য পালন করা তাদের পক্ষে কখনই সম্ভবপর হবে না।

জীবনের সফলতা-ব্যর্থতা খুঁজে ফিরে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের জগতে। স্নেহ-মমতা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসার মতো গুণগুলো হারিয়ে যেতে থাকে তাদের মধ্য থেকে। নিজেকে ছাড়া পরিবারের, সমাজের সদস্যদের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ লোপ পায় এবং নিজেদের অজান্তেই আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থপর হয়ে ওঠে। বাস্তবজীবনের পরাজয়কেও তারা মেনে নিতে পারছে না। এমনকি তারা নিজেকে এবং নিজের জীবন নিয়েও সন্দেহ-অবিশ্বাস ও আশাহীন হয়ে পড়ছে। ফলে তারা জড়িয়ে পড়ছে জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মে। শিশু-কিশোর ও কোমলমতিদের এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিক গুণাবলীর অধিকারী এবং সুশিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইসলামী শিক্ষার বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার নৈতিকতার আবশ্যকীয়তা বুঝে ইসলাম শিক্ষা বইয়ের নাম পরিবর্তন করে নাম রেখেছে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা। সে জন্য মাননীয় সরকার প্রধানকে সাধুবাদ জানাই। শতকরা ৯০ ভাগ মুসলিমের দেশে শিক্ষার সর্বস্তরে ইসলামিক স্টাডিজ প্রত্যাশিত। কিন্তু সর্বস্তরে তো নেই; বরং স্কুল-কলেজ পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তক হিসেবে যে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয় রয়েছে, তা আজ অবহেলিত ও সঙ্কুচিত।

জগতের বুকে সত্যের সহায়তা ও ন্যায়ের সংগ্রাম করার আবশ্যকতা কোরআনের উদ্ধৃত আয়াত হতে বুঝা যাচ্ছে। এ সম্বন্ধে হজরত রাসুলে করিমের পবিত্র হাদিসেও ঘোষণা করা হয়েছে যে, ইসলাম ন্যায়ের জন্য সংগ্রাম করার নির্দেশ প্রদান করেছে। হুজুর (সা.) বলেছেন, আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধাচরণ করে কোনো মানুষের হুকুম মানা চলবে না। (নাওয়াছ ইবনে ছোমআন কর্তৃক বর্ণিত, হজরত আব্দুল্লাহ (রা.) কর্তৃক বর্ণিত এক হাদিসে হুজুর (সা.) বলেছেন, আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত অপরাধের দন্ড বন্ধ করার জন্য যে ব্যক্তি অনুরোধ করে সে আল্লাহর সঙ্গেই বিরোধ করে। যে ব্যক্তি জ্ঞাতসারে কোনো মিথ্যা বা অন্যায়ের পক্ষে সমর্থন করে, এই কাজ থেকে বিরত না হওয়া পর্যন্ত সে আল্লাহর অভিশাপে পরিবেষ্টিত থাকে। আর যে ব্যক্তি কোনো মোমিনের প্রতি মিথ্যা দোষারোপ করে তওবা না করা পর্যন্ত আল্লাহ তাকে জাহান্নামীদের মধ্যে শামিল করে রাখেন। (আদুল মোফরাদ) হজরত আলী (রা.) কর্তৃক বর্ণিত হুজুর (সা.) এরশাদ করেছেন, হুকুমদাতা যে কেউই হোক না কেন কোনো পাপকার্যে হুকুম করলে তা মানতে হবে না বরং শুধু সৎকার্যের আদেশই মেনে চলবে। অন্যায়ের প্রতিবাদ সম্বন্ধে নবী করিম (সা.) এরশাদ করেছেন, আমরা আল্লাহর রাসূলের হাতে বায়আত (শপথ গ্রহণ) করেছি যে সুখে-দুঃখে; সুবিধা-অসুবিধায় আমরা তার হুকুম মেনে চলব।

নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় এবং ডিজিটাল মাদক নামক এই ভয়াবহতা থেকে একমাত্র ইসলামী শিক্ষা’ই রক্ষা করতে পারে। কেননা এ শিক্ষা আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব কুরআন মাজিদের সার্বিক দর্শনের ভিত্তিতে রচিত। আর এ লক্ষ্য সামনে রেখেই শিক্ষার উচ্চস্তরে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ের অন্তর্ভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সূচনা লগ্নেই নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির প্রস্তাবিত ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ সম্পর্কে কোনো কোনো মহলে প্রশ্ন তোলা হয়। এ সম্পর্কে নওয়াব আলী চৌধুরী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, অতীতের মুসলিম মনীষীদের চিন্তাধারা ও ইসলামের পুরোপুরি ইতিহাস সম্পর্কে মুসলিমদের অবশ্যই অবগত হতে হবে। এই উদ্দেশ্যে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য শিক্ষার সমন্বয়ে নিউ স্কিম মাদরাসা স্থাপন ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নিউ স্কিমের ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে প্রবেশ করলে এমন গ্র্যাজুয়েশন লাভ করবে, যা সেই বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদেরকে উত্তম প্রশাসনিক চাকরি-বাকরি লাভ বা শিক্ষা পেশা অবলম্বনে উপযোগী করে তুলবে এবং আশা করা যায়, এরা অন্যান্য বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের তুলনায় কোনো অংশেই কম হবে না।

আমরা যেখানে যে অবস্থাতেই থাকি, ন্যায় ও সত্য কথা বলতে কোনো নিন্দুকের নিন্দায় ভয় করব না। আল্লাহর প্রদত্ত দলিল উপস্থিত থাকতে যদি তার কোনো অমর্যাদা বা কুফরি দেখি সরলভাবে তার প্রতিবাদ করব। হুজুর (সা.) আরও বলেছেন, অন্যায়-অনাচার এবং নাহক বিদ্রোহের দিকে যারা মানুষকে ডাকে তার জন্য সংগ্রাম করে এবং তার উপরই যাদের মৃত্যু হয় তারা আমার উম্মতের শ্রেণিভুক্ত নয়। (হজরত জোবইরে ইবনে মোতামেন কর্তৃক বর্ণিত) ন্যায় ও সত্য কথা বলতে ইসলাম ও তার শিক্ষাকেই বুঝাচ্ছে। হজরত আবু মুসা (রা.) বর্ণনা করেছেন, মহানবী হজরত রাসুলে করিম (সা.) বলেছেন, লোকদের ইসলামের দিকে আহবান কর এবং তাদেরকে সুসংবাদ প্রদান কর। সাবধান। তাদের অন্তরে (ইসলামের প্রতি) ভীতি ও ঘৃণার সৃষ্টি করো না। (কানজুল উম্মাল)। হুজুর (সা.) বলেছেন, আমি তোমাদের মধ্যে দুইটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তা অবলম্বন করতে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা কখনই পথভ্রষ্ট হবে না। প্রথমটি হচ্ছে কোরআন এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে হাদিস।

মোট কথা, এই যে, ন্যায়ের জন্য সংগ্রাম ও সত্যের সহায়তা এবং অসত্যের প্রতিবাদ জ্ঞাপনের আদেশ বারংবার দেওয়া হয়েছে। বর্ণিত হাদিসগুলি হতে তা সহজেই অনুমান করা যায়। ধর্মে সত্য কথা গোপনকারীকে বোবা শয়তানের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এ সম্বন্ধে হুজুর (সা.) এরশাদ করেছেন, আসসুকুতু আনিল হক্কে শয়তানু আখরাছু। অর্থাৎ সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে যে নীরবতা অবলম্বন করে সে বোবা শয়তান। জেনে-শুনে যারা সত্য গোপন করে অথবা সত্য প্রকাশ-প্রচারে নীরবতা অবলম্বন করে, হাদিসের ভাষায় তারা বোবা শয়তান। সরব শয়তান আর নীরব শয়তানের মধ্যে পার্থক্যের রেখা টানা গেলেও শয়তানী স্বভাবের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। সবাই সত্য প্রচার করলে, সত্য প্রচারে অভ্যস্ত হলে, অসত্য কখনো টিকে থাকতে পারে না। তবে সাময়িকভাবে সত্যকে গোপন রাখা সম্ভব হলেও চিরকাল তা গোপন থাকে না, কোনো না কোনো দিন অসত্য ফাঁস হয়ে যাবেই।

কেননা সত্যের কাছে অসত্যের বিনাশ অবশ্যম্ভাবী। ইসলামের মূল্যবোধ দ্বারা মানব চরিত্রকে সুশোভিত করার মধ্যে নিহিত রয়েছে অফুরন্ত কল্যাণ। সমাজে কোনো খারাপ, মন্দ কাজ পরিলক্ষিত হলে তা শক্তিবলে প্রতিহত করা, কিংবা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মন্দ দিকগুলি বুঝিয়ে দিয়ে তা রোধ করার শান্তিপূর্ণ পথ অনুসরণ করা ইসলামের শিক্ষা। যদি এসব কিছুতেই ধর্ম ও সত্য বিরোধী কাজ প্রতিহত করা সম্ভব না হয় তা হলে সে কাজের প্রতি মনে মনে হলেও ঘৃণা প্রকাশ করার কথা ইসলাম শিক্ষা দিয়েছে। এই দায়িত্বগুলি সকলকেই পালন করতে হবে। অর্থাৎ সমাজের সচেতন ও কর্তব্যপরায়ন ব্যক্তিবর্গের উচিত হবে, অন্যায়-অনাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং সমাজ ও জাতীয় জীবন থেকে ঐসব গর্হিত কাজের মূলোৎপাটন করা। যারা এসব পালনে ব্যর্থ হবে আল্লাহর নিকট তাদের অবশ্যই জবাবদিহি হতে হবে। কেননা, অন্যায়-অনাচার ও অপরাধ দেখেও কর্তব্যপরায়ন ব্যক্তি বা মহল যদি নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে তাহলে তাদের এই আচরণকে শয়তানী আচরণের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কারণ শয়তান প্ররোচণা ও কুমন্ত্রণা দিয়ে মানুষকে বিপথে পরিচালিত করে। আর যারা এসব দেখে-শুনেও নীরবতা অবলম্বন করে তারা প্রকারন্তরে শয়তানের ভূমিকাকেই সমর্থন করে। ফলে তাদের অপরাধ ও শয়তানের মতই গণ্য হবে।

সমাজ সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ ইসলাম ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সামাজিক অনাচার-পাপাচার রোধ কল্পে সমাজপতিদের দায়িত্ব অপরিসীম। সুস্থ, চরিত্রবান ও আদর্শ সমাজ গড়ে তোলার জন্য সকল প্রকারের অপরাধ নির্মূল করা ছাড়া গত্যন্তর নেই। এসব দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, কর্মতৎপরতা ও সৎসাহস প্রদর্শন করা একান্ত প্রয়োজন। এ কাজ সম্পাদন করতে গেলে প্রতিকূলতার সৃষ্টি হতে পারে। তথাপি সত্য প্রতিষ্ঠার খাতিরে আদর্শ সমাজ গঠনে ইসলামের মহান শিক্ষাকে পাথেয় করে অগ্রসর হলে অভীষ্ঠ লক্ষ্য অর্জন মোটেই কঠিন নয়। একথাও স্মরণ রাখতে হবে যে, কেবল বৈষয়িক শিক্ষা নয়, ইসলামের নৈতিক শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে সুন্দর, সফল, কল্যাণকর ও সুখী সমাজ গঠন করার অসংখ্য নজির বিদ্যমান রয়েছে।

ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে জাতি ও সমাজকে উন্নতির শীর্ষে অধিষ্ট্য হওয়ার মূল চাবিকাটি। প্রতিটি ধর্মের মূল চাবিকাটি হলো সত্য ও ন্যায়পরায়ণতা এবং সকল ধরনের পাপাচার থেকে বিরত থাকা। এটাই সকল ধর্ম প্রচার-প্রচারণা করে থাকে বা প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে কাজ করে থাকে। তাই আমাদের লক্ষ্য হোক ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে আমাদের জীবন পরিচালিত করতে পারি। 

 

সংগ্রহে: আনাসটেক বাংলা

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url