কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ও সমাধানের উপায় ꡶ Computarer Guruttopurno Somossa O Somadhaner Upai
কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ও সমাধানের উপায় ꡶ Computarer Guruttopurno Somossa O Somadhaner Upai
আসসালামু আলাইকুম
প্রতিটি
মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে কম্পিউটার বা আইসিটি
প্রযুক্তি। কম্পিউটারের আভিধানিক অর্থ হলো গণনাকারী যন্ত্র। বর্তমানে দিন দিন এর ব্যবহার
বেড়েই চলেছে। যেমন- চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষা, আউটসোর্সিং ও ব্যক্তিগত পেশায় থাকতেই হবে
কম্পিউটার। এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও অনলাইনে ক্লাস ও প্রশিক্ষণ হচ্ছে
কম্পিউটারের মাধ্যমে। মানুষের জীবনের এই প্রয়োজনীয় যন্ত্রটি হঠাৎ করেই বিভিন্ন ধরনের সমস্যা
হতে পারে।
সেটা
আবার বাসায় বা অফিসে যেখানেই হোক না কেনো। জরুরী কাজের সময় হঠাৎ সমস্যা হলে তখন মন
খারাপ হয়ে যায়। হঠাৎ করে কম্পিউটারের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। কিছু সমস্যা থাকে
যেগুলো নিজে নিজেই তাৎক্ষনিকভাবে সমাধান করে নিতে হয়। আর নিতে হলে সেই সমস্যাগুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা খুবই প্রয়োজন। তাই নিম্নে কম্পিউটারের কিছু সমস্যা ও সমাধান উল্লেখ্য
করা হলোঃ
কম্পিউটার অনেক সময় স্লো
কাজ করছে
হঠাৎ
করে কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হতে পারে।
যদি ভাইরাস আক্রান্ত হয়, তাহলে আক্রান্ত ফাইলগুলো এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার দ্বারা স্ক্যান করে নিতে হবে
এবং ডিলিট করে দিতে হবে।
অনেক সময় বেশি প্রোগ্রাম
ও সফটওয়্যার সেটাপের কারণ।
এই
জন্য কম্পিউটারের প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারগুলো ছাড়া অন্য কোনো সফটওয়্যার ব্যবহার না করায়
ভালো। এবং প্রতিদিন কম্পিউটার ব্যবহারের আগে ক্নিলিন করে নিতে হবে। অতিরিক্ত প্রোগ্রাম ও সফটওয়্যারগুলো ডিলিট করে দিতে হবে।
মেইন ড্রাইভ বা সি ড্রাইভে
স্পেস কম থাকার কারণ।
যদি
কম্পিউটার স্পেস কম থাকে তাহলে স্পেস বাড়িয়ে নিতে হবে। এবং অপ্রয়োজনীয় ফাইলগুলো ডিলিট
করে দিতে হবে। যাতে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে না হয়।
অপরিস্কার বা ধুলাবালি
থাকার কারণ।
কম্পিউটার
সব সময় পরিস্কার করবো। যেকোনো প্রকার ধুলাবালি থেকে কম্পিউটারকে মুক্ত রাখায় ভালো। তা না হলে যেকোনো সময় কম্পিউটারে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কম্পিউটার বারবার রিস্টার্ট
হচ্ছে
অপারেটিং সিস্টেম বা
কম্পিউটারে ভাইরাসের আক্রমণ কারণে।
যদি
এমন হয় তাহলে কম্পিউটারের এন্টিভাইরাস সফটওয়্যারটির ফুল ভার্সন ইন্সটল করে কম্পিউটারের
সবগুলো ফাইল স্ক্যান করে নিতে হবে। তাহলে অপারেটিং সিস্টেম বা কম্পিউটার ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকবে।
এন্টিভাইরাস সফটওয়্যারের
কারণে।
যদি
কম্পিউটারে ফ্রি এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা হলে এমন সমস্যা দেখা দেয়।
কম্পিউটারে এমন ধরনের এক বা একাধিক এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করবেন না। সবসময়
পেইড বা ফুল ভার্সন এন্ট্রিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করবেন।
কোনো বিশেষ অসামঞ্জস্যপূর্ণ
সফটওয়্যার ব্যবহারের ফলে।
যদি
এমন সফটওয়্যার কম্পিউটার পাওয়া যায়, তাহলে মুছে ফেলতে হবে।
অপারেটিং সিস্টেমের সমস্যার
কারণে।
যদি
কম্পিউটারে অপারেটিং সিস্টেমের কোনো ফাইল বা ফোল্ডার নষ্ট বা ডিলিট হয়ে য়ায় এবং করাপ্টেড
হয়ে যায় তাহলে এমন সমস্যা হয়। এমন সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে অপারেটিং সিস্টেমটি
ইন্সটল করে নিবেন।
কম্পিউটার চালু করার
পর আবার নিজেই বন্ধ হচ্ছে
প্রসেসরের কুলিং ফ্যানের
কারণে সমস্যা।
এটা
সাধারণত প্রসেসরের কুলিং ফ্যানের সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। চেক করে নিতে হবে মাদারবোর্ডে
এর সংযোগ ঠিক আছে কিনা। ধুলাবালি জমে এমন হচ্ছে কিনা। থার্মানাল পেস্ট ক্ষয় হয়ে গেছে
কিনা ইত্যাদি চেক করে নিতে হবে। অর্থাৎ কুলিং ফ্যান যদি প্রসেসরকে ঠান্ডা করতে না পারে
তাহলে এমন সমস্যা হয়ে থাকে।
কম্পিউটার চালু হচ্ছে
না
পাওয়ার সাপ্লাইয়ের কোনো
সমস্যা থাকলে।
যদি
কম্পিউটারের পাওয়ার সাপ্লাই ভালো আছে কিনা চেক করে নিতে হবে। সকল ক্যাবল ঠিক আছে কিনা
দেখে নিতে হবে। সবগুলো ঠিক থাকার পরও চালু হচ্ছে না তাহলে বুঝবেন পাওয়ার সাপ্লাই নষ্ট
হয়ে গেছে।
পাওয়ার বাটনটি বসে যাওয়া
বা সমস্যা থাকায়।
কম্পিউটারে
অনেক সময় পাওয়ার বানটটি অনেক ব্যবহারের কারণে বসে যায়। যদি এমন সমস্যা হয় তাহলে বাটনটি
ঠিক করে নিতে হবে।
র্যামে ময়লা জমার কারণে।
কম্পিউটারের
মাদারবোর্ড অনেক দিন পরিস্কার না করার কারণে র্যামে ময়লা জমাট বাধে। যার ফলে এমন সমস্যা
দেখা দেয়। র্যাম খুলে সাদা কাগজ দিয়ে পরিস্কার করে আবার লাগিয়ে দিন দেখবেন সমস্যা
সমাধান হয়ে গেছে।
প্রসেসরে ময়লা জমার কারণে।
অনেক
ধরে যদি বন্ধ থাকে তাহলে প্রসেসরে ময়লা জমার আশংকা থাকে। যদি এমন সমস্যা হয় তাহলে প্রসেসরটি
খুলে র্যামের মতো করে পরিস্কার করে লাগিয়ে দেখুন সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে।
কম্পিউটার চালু হতে বেশি
সময় নিচ্ছ
স্টার্টআপে অনেকগুলো
প্রোগ্রাম সেটাপ করা থাকলে।
কম্পিউটার
চালু করার পর দেখা যাচ্ছে অনেক সময় নিয়ে চালু হচ্ছে। এর কারণ হলো স্টার্টআপে অনেকগুলো
প্রোগ্রাম আছে। যদি থাকে তাহলে প্রয়োজনীয় প্রোগ্রামগুলো রেখে বাকি প্রোগ্রামগুলো ডিলিট
করে দিন দেখবেন কম্পিউটার খুব দ্রুত চালু হয়ে যাচ্ছে।
কম্পিউটার বার বার হ্যাং
হচ্ছে
কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রমনের
কারণে।
কম্পিউটারে
ভাইরাস আক্রমনের কারণে বা আপডেট হওয়ার কারণে এমন হচ্ছে। যদি তাই হয় তাহলে এন্টিভাইরাসটি
আনইন্সটল করে আবার ইন্সটল করে কম্পিউটারের সমস্ত ফাইল স্ক্যান করে নিন। এবং অপ্রয়োজনীয়
ফাইলগুলো ডিলিট করে দিন। আর উন্ডোজ আপডেট হলো তা বন্ধ করতে হবে।
কম্পিউটারে এক বা একাধিক
এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার থাকার কারণে।
যদি
কম্পিউটারে এক বা একাধিক এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার থাকে তাহলে এমন সমস্যা দেখা দেয়। কারণ
কম্পিউটারের বিভিন্ন ফাইলকে রিট করতে বাধা প্রদান করে, যার ফলে কম্পিউটার বার বার হ্যাং
করে। প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার রেখে বাকিগুলো ডিলিট করে দিন। দেখুন সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে।
কম্পিউটারের ঘড়ির সময়
ঠিক থাকছে না
মাদারবোর্ড এর সংযুক্ত বায়োস ব্যাটারিটি
ডাউন হয়ে গেলে।
কম্পিউটারের
মাদারবোর্ডের বায়োস ব্যাটারিটি ডাউন হয়ে থাকলে এমন সমস্যা দেখা দেয়। লক্ষ্য করবেন
কম্পিউটার চালু করার পর এফওয়্যান সংকেত দিতে বলে এবং ঘড়ির সময় ঠিক থাকছে না। তাহলে
বুঝবেন বায়োস ব্যাটারিটি ডাউন হয়ে গেছে। বায়োস ব্যাটারিটি পরিবর্তন করে দিন দেখবেন
সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
মনিটরের লেখা বা স্ক্রিন
উল্টে যাওয়া
মনিটরের লেখা বা স্ক্রিন
উল্টে যাওয়ার কারণে।
কীবোর্ডের
ctrl+alt+up arrow কীগুলো একসাথে চাপুন। দেখবেন আপনার মনিটরের লেখা বা স্ক্রিন ঠিক
হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে গ্রাফিক্স সেটিংসে গিয়ে রোটেট অপশন অফ করে দিন দেখবেন সমস্যা
সমাধান হয়েছে।
এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার
আনইন্সটল না হওয়া
অপারেটিং সিস্টেমের রেজিস্ট্রিশন
কোনো সমস্যা।
ইউটিলিটি
টুল দিয়ে আনইন্সটল করতে হবে। বিভিন্ন ধরণের ইউটিলিটি সফটওয়্যার পাওয়া যায়। ফ্রি অথবা
পেইড যেটা দিয়েই করেন করতে পারেন। যেমন- সি-ক্লিনার। তাহলে দেখবেন এন্টিভাইরাস সফটওয়্যারটি
আনইন্সটল হচ্ছে।
অপারেটিং সিস্টেমে লোডিং
টাইম
অপারেটিং সিস্টেমে ভাইরাস
আক্রান্ত।
সম্ভবত
কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত। কোনো ভালো অ্যান্টিভাইরাস ইন্সটল করার পর স্ক্যান করে দেখতে
পারেন। যদি সমস্যা সমাধান না হয় তাহলে অপারেটিং সিস্টেমটি ইন্সটল করতে হবে।
কম্পিউটার
ব্যবহার করতে গেলে প্রতিনিয়ত যে সমস্যাগুলো সবসময় ফেস করতে হয়, সেগুলোকে নিয়ে আলোচনা
করা হয়েছে। চেষ্টা করেছি গুরুত্ব পয়েন্টগুলো নিয়ে আলোচনা করার। যদি উপকৃত হয়ে থাকেন
তাহলে এই লেখাটি অন্যদের কাছে শেয়ার করুন। শিখুন এবং অন্যকে শিখতে সাহায্য করুন। তাহলে
আমাদের লেখা সার্থ্যকতা পাবে।
সংগ্রহে: আনাসটেক বাংলা