কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ ও প্রতিকার ꡶ Computer Virus Akranto Hower Lokhkhon O Protiker
![]() |
কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ ও প্রতিকার ꡶ Computer Virus Akranto Hower Lokhkhon O Protiker
আসসালামু
আলাইকুম
কম্পিউটার
ভাইরাস শব্দটি এমন কোনো কম্পিউটার ব্যবহারকারী নেই যে, সে জানে না। ভাইরাস
আমাদের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এর
জন্য অনেক ক্ষতিকারক। ভাইরাসের ব্যাপারে বিশদভাবে জানতে বা প্রতিরোধের
জন্য কী কী করণীয় তা জানা অতি জরুরি।
কাজ
করতে গিয়ে হঠাৎ একসময় কম্পিউটাররের কিছু ফাংশন কাজ করে না। যেমন:
সিস্টেম এ্যারোর দেখালে, স্লো হয়ে গেলে, খুলতে সময় নিলে, নিজে নিজে ফাইল ডিলিট হয়ে গেলে, ব্যাড ইমেজ ম্যাসেস দেখালে, সিস্টেম ক্রাশ এবং মাউস পয়েন্টার ফাইলের উপর নিলে ডাবল ক্লিক হওয়া বা ডিলিট হলে
আমরা হঠাৎ করে বিশাল চিন্তার মধ্যে পড়ে যায়। তখন আমরা অনুভব করে থাকি, কম্পিউটারে কোনো ভাইরাস প্রবেশ করেছে কিনাা। আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে তার সমাধান খুঁজে
বের করা চেষ্টা করি।
যদি
কম্পিউটারের এই ক্ষতিকারক ভাইরাস
সম্পর্কে আগে থেকে জেনে থাকেন এবং কম্পিউটারকে কিভাবে ভাইরাস মুক্ত রাখা যায়। তাহলে
আর কোনো ভয় পেতে হবে
না বা কোনো ক্ষতিকর
সমস্যারে মুখোমুখী হতে হবে না। তাই
আজকে আমরা জানবো কিভাবে কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত রাখতে হয়:
কম্পিউটার
ভাইরাস:
কম্পিউটার
ভাইরাস এমন একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম বা ফাইল যা
ব্যবহারকারীর অনুমতি বা সংকেত ছাড়াই
কম্পিউটারকে সংক্রমিত করে এবং ধীরে ধীরে পুরো কম্পিউটারে ছড়িয়ে যায়। ভাইরাস
যেকোনো কম্পিউটারে কখন, কিভাবে ঢুকে পড়ে সেটা বুঝতে পারা অনেক কঠিন।
ভাইরাস
এর মূল কাজ হলো কম্পিউটার সিস্টেমে ঢুকে, অন্য প্রোগ্রাম বা ফাইলগুলোকে মোডিফাই করে নিজের কিছু ক্ষতিকারক কোড প্রোগ্রামগুলোতে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া। এতে
কম্পিউটারের অন্যান্য প্রোগ্রাম বা ফাইলগুলো ক্ষতিকারক
ভাইরাসটির মতো করে কাজ করা শুরু করে দেয়। যেমন:
কম্পিউটার হঠাৎ কোনো ফাংশন নিজেই শুরু হয়ে যায়, কম্পিউটার রিস্টার্ট হয়ে যায়, সিস্টেম ফেইল দেখায়, ব্যাড ইমেজ ম্যাসেজ দেখায় এবং যা আপনি করছেন
না তাও হয়ে যাচ্ছে। যদি
এমন সমস্যা কম্পিউটার হচ্ছে দেখা যায়, তাহলে বুঝবেন কম্পিউটারে ভাইরাস প্রবেশ করেছে এবং এটাই কম্পিউটার ভাইরাস।
কম্পিউটার
ভাইরাস কত প্রকার ও
কি কি:
কম্পিউটার
ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো প্রকারভেদ করা যায় না। কিন্তু
বিশেষ ধরনের কিছু ভাইরাস রয়েছে যা বর্তমানে ৯৯%
কম্পিউারে প্রবেশ করে ক্ষতি সাধন করে থাকে। নিম্নে
সেসকল ভাইরাসগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো:
Trojans ভাইরাস:
ভাইরাসটি
বেশিভাগ হ্যাকার রা ছড়ায় এবং
হ্যাকার রা কম্পিউটারের ইন্টারনেট, নেটওয়ার্ক
ব্যবহার করে প্রবেশ করতে পারে এবং কম্পিউটারে থাকা পার্সোনাল এবং গুপ্ত তথ্য চুরি করে নিতে পারে।
Worms ভাইরাস:
এ
ধরনের ভাইরাসগুলোকে self-replicating বলা হয়। যা কম্পিউটার সিস্টেম খুঁজতে থাকে এবং ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পরে। নিজেদের
কোড এমন ভাবে বদলে নেয় যে, এগুলোকে খুঁজে বের করা অনেক কঠিন হয়।
Browser Hijackers ভাইরাস:
কম্পিউটার
ভাইরাসটি সিস্টেমে ডাউনলোড এর মাধ্যমে ঢুকে
যেতে পারে। মানে,
যখন আপনি কোনো ফাইল ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করবেন। তখন
এই ভাইরাসগুলো সেই ফাইলের সাথে plugin বা extension হিসেবে আপনার কম্পিউটারে ঢুকে পড়বে। তারপর
সেই ভাইরাসগুলো web page বা ইন্টারনেট ব্রাউজারে
অনেক রকমের ক্ষতিকারক বিজ্ঞাপন দেখায়, popup বিজ্ঞাপন দেখায়, ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্য ওয়েবসাইট ঢুকে পড়ে।
Overwrite ভাইরাস:
এই
ভাইরাসগুলো কম্পিউটার সিস্টেমে ঢুকে পড়ে এবং সিস্টেম ফাইল বা যেকোনো ফাইল
ডিলিট করে দিতে পারে। ফাইল
ডিলিট করে নিজের মতো সেই ফাইলগুলো এডিট কোরে কম্পিউটার সিস্টেমে ক্ষতি সাধন করে থাকে।
Malware ভাইরাস:
কম্পিউটার
সিস্টেম ভাইরাস বানানো হয় এবং কম্পিউটারকে
damaged (ক্ষতিগ্রস্থ)
করার জন্য বানানো ও ছড়ানো
হয়। বেশিভাগ
ক্ষেত্রে অন্য কম্পিউটার থেকে ফাইল কপি করার সময় এবং infected usb device ব্যবহার করার সময় আপনার সিস্টেমে ছড়িয়ে পড়ে।
Spyware-spyware ভাইরাস:
এ
ধরনের ভাইরাসগুলো ব্যবহার করে কম্পিউটার এবং ব্রাউজার ব্যবহারের ওপরে নজর রাখা হয়। বেশিরভাগ
ইন্টারনেট থেকে আপনার সিস্টেমে ঢুকে পড়তে পারে।
Adware ভাইরাস:
কম্পিউটারে
ইন্টারনেট থেকে কিছু ডাউনলোড করার সময় ঢুকে আবার কিছু নিরাপত্তাহীন ওয়েবসাইটে গেলে নিজের এমন কিছু ফাইল popup এর মাধ্যমে কম্পিউটারে
ডাউনলোড হয়ে যায় যা adware ভাইরাসগুলো থাকে। এই
ভাইরাস কম্পিউটারে ঢুকে নিজে নিজে বিজ্ঞাপনের ওপর বিজ্ঞাপন দেখাতে থাকে যেগুলো কোনো মতেই বন্ধ করা সম্ভব না।
কম্পিউটার
সিস্টেমে ভাইরাস ধুকে আছে, কিন্তু তার কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। এক একটি ভাইরাসের লক্ষণ এক এক রকম
হতে পারে। সেটা
নির্ভর করে তার কাজের ওপরে বা কিসের জন্য
বানানো হয়েছে সেটার ওপরে নির্ভর করে। যেমন:
কম্পিউটারে নিজে নিজেই বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে, ব্রাউজারে pop-up পেজ খুলছে, automatically অন্য অন্য ওয়েবপেজ বা ওয়েবসাইট পেজ
খুলে যাচ্ছে, তখন বুঝবেন যে, কম্পিউটারে Adware virus আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়াও
যে লক্ষণগুলো দেখা যায়:
* কম্পিউটার
নিজেই রিস্টার্ট হওয়া
* অত্যাধিক
হ্যাং হওয়া
* হার্ডওয়্যার
বা সফটওয়্যার (hardware বা software) সমস্যা পাওয়া
* এ্যারোর
(error) মেসেজ দেখানো
* ইন্টারনেট স্লো চলা
* হার্ডওয়্যার
বা সফটওয়্যার (hardware বা software)
* কম্পিউটার
অসাধারণ ভাবে কাজ করা
* হঠাৎ
এক জায়গায় হ্যাং হয়ে যাওয়া
* নিজে
নিজে এপ্লিকেশন (application) চালু বা বন্ধ হয়ে
যাওয়া
কম্পিউটারকে
ভাইরাস থেকে মুক্ত রাখার উপায়:
ভাইরাসকে
কম্পিউটারে ঢুকতে বাধা দেয়ার জন্য অনেক কিছু মেনে চলতে হবে। যদি
ইন্টারনেট ব্যবহার না করেন, তাহলে
ভাইরাস ঢুকার তেমন সুযোগ নাই। আর যদি কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তাহলে সতর্ক থাকার অনেক প্রয়োজন। কম্পিউটারে
একটি এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার অবশই ব্যবহার করবেন। Avast বা
Kaspersky (internet security antivirus) ফ্রীতেই
পাবেন। যদি
এন্টিভাইরাস কম্পিউটারে ব্যবহার করেন তাহলে বাইরে থেকে ভাইরাস ঢুকতে পারবে না। এন্টিভাইরাস
সফটওয়্যারগুলো up to
date মুড করে রাখবেন। ফ্রি
সফটওয়্যার ডাউনলোড করার আগে ভালো করে যাচাই করে নিবেন।
সব
থেকে ভালো হয় যদি পেইড
এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার বা এক বছর
মেয়াদি এন্টিভাইরাস সফটওয়্যারটি ক্রয় করে ব্যবহার করতে পারেন।
আর
যখন অন্যদের থেকে Pen drive, hard drive
বা যেকোনো USB Device থেকে ফাইল কপি করবেন তখন এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার দ্বারা যাচাই করে নিবেন যে ভাইরাস আছে
কিনা। যদি
ভাইরাস থাকে তাহলে এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার দ্বারা স্ক্যান করে তারপর কপি করবেন।
ভাইরাস
আক্রান্ত কম্পিউটারকে ভাইরাস মুক্ত করা:
কম্পিউটারে
বা ল্যাপটপে ভাইরাস আছে এমন মনে হলে সাধারণ antivirus software ডাউনলোড করে এবং ইনস্টল করবেন এবং কম্পিউটারে থাকা ভাইরাস স্ক্যান করে চিহ্নিতগুলোকে ডিলিট করে দিবেন। ফ্রি
এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার দ্বারা যদি ভাইরাস ডিলিট বা রিমুভ করতে
না পারেন। তাহলে
একটি প্রিমিয়াম বা পেইড (paid) এন্টিভাইরাস
কিনতে হবে।
অনেক
সময় দেখবেন যে, এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার দ্বারা কম্পিউটার থেকে ভাইরাস চিহ্নিত করতে পারছে না। তখন
কেবল System restore বা Full system format ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাহলে
কম্পিউটারে ভাইরাসের সমস্যা নিয়ে ভুগছেন, তখন একবার full windows format করে নিবেন বা আপনার পাশে
কোনো বিশ্বত্ব কম্পিউটার শপ সার্ভিস সেন্টার
থেকে হার্ড ডিক্সের ভাইরাস মুক্ত করে নিবেন। এবং
আপনার কম্পিউটারের ফাইলগুলো সংরক্ষণ থাকবে বা কোনো সমস্যা
হবে না।
কম্পিউটারে
ভাইরাস কিভাবে ঢুকে:
কম্পিউটার
বা সিস্টেমে অনেক সময় সহজে ভাইরাস ঢুকে যেতে পারে। যদি
এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার দ্বারা প্রোটেক্ট করা না থাকে।
উল্লেখ্যযোগ্য কিছু বিষয়গুলোর মাধ্যমে বেশি প্রবেশ করে তা নিম্নে উল্লেখ্য
করা হলো:
* ইন্টারনেট
ব্যবহারের মাধ্যমে
* ইউ এস বি (USB) ডিভাইস
থেকে
* পেন
ড্রাইভ (pen drive) ডিভাইস থেকে
* হার্ড
ডিক্স (hard disk) ডিভাইস থেকে
* মোবাইল
(mobile) ফোনের মাধ্যমে
* ই-মেইল এটাচমেন্ট (E-mail attachment)
ব্যবহারের মাধ্যমে
শেষ
কথা হলো কম্পিউটার ভাইরাস কি, কেমন, কিভাবে ভাইরাস তৈরি হয়, কোথা থেকে আসে এবং কেমন দেখতে ইত্যাদি বিষয়গুলো আমরা আপনাদের জানানোর চেষ্টা করেছি। যদি
আপনারা আমাদের সাইটটির লেখা পড়ে উপকৃত হন তাহলে বুঝবো
যে আমাদের লেখা স্বার্থক হয়েছে। আমার
একটা রিকুয়েষ্ট থাকবে আপনাদের কাছে যারা কম্পিউটার বা ল্যাপটপ প্রতিদিন
ব্যবহার করেন তারা যেকোনো একটি এন্ট্রিভাইরাস সফটওয়্যার ফ্রি বা পেইড হোকনা
কেনো অবশ্যই ব্যবহার করবেন। এবং
তথ্য ইনপুট বা আউটপুটের সময়
শর্তকতা অবলম্বন করবেন প্রতিনিয়ত। আশা
করি আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপটি ভাইরাস
মুক্ত থাকুক, ও ভালো থাকুন শুভকামনা রইল।
সংগ্রহে: আনাসটেক বাংলা