চলোনা ঘুরে আসি নারিকেল জিঞ্জিরা ꡶ Cholona Ghure Asi Narikel Jinjira
চলোনা ঘুরে আসি নারিকেল জিঞ্জিরা ꡶ Cholona Ghure Asi Narikel Jinjira
আসসালামু
আলাইকুম
বাংলাদেশ অপার সৌন্দর্যের ভান্ডার। ছোটবেলায় এ কথাটি যখন শুনি তখন মনে হয়েছিলো কই আমাদের দেশ তো অত সুন্দর না বরং অন্যান্য দেশগুলোই বেশি সুন্দর। এর কারন বাঙ্গালিদের না ঘুরতে যাওয়ার অভ্যাস। শুধু যেটুকু আমরা আমাদের চারপাশ দেখি তার সাথেই অন্যান্য দেশগুলোর তুলনা করি। যদিও এখন বেড়ানো বা ঘুরতে যাওয়ার সে অভ্যাস অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে।
সেই সুবাদে আমার সমুদ্র ও পাহাড় দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। সেন্ট-মার্টিন দেখার ইচ্ছা ছিল অনেক দিনের। বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, দারুচিনি দ্বীপ অথবা নারকেল জিঞ্জিরা যে নামেই ডাকা হোক না কেনো বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানায় একমাত্র দ্বীপ সৌন্দর্য সেন্ট-মার্টিনই।
ঘুরাঘুরি ও দেখা
যদি কোনো প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান কারও ঘুরে ঘুরে দেখার ইচ্ছা হয় তবে সেন্ট-মাটিন অসাধারন। আমার যেমন ইচ্ছা হয়েছিলো পুরো দ্বীপ হেঁটে হেঁটে দেখার তেমনও করতে পারে যে কেউ।সেজন্য বেশ সকাল সকাল বেরিয়ে পড়তে হবে দ্বীপের যে কোন স্থান থেকে। সমুদ্র সৈকত বরাবর হাঁটলে হাঁটার ক্লান্তি দূর হবে। কিছুদূর পর পর চায়ের দোকান চা, বিস্কুট আর বিখ্যাত ডাবের পানি খেয়ে একটু জিরিয়ে নেওয়া যায়। তারপর আবার শুরু এভাবে কয়েক ঘন্টা হাঁটলে পুরো দ্বীপটা দেখা হয়ে যাবে।এ রকম ঘুরাঘুরিতে স্থানীয় জীবন ব্যবস্থা আর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষদের খুব কাছ থেকে দেখা যায়। আরও একটা ব্যাপার আছে সেটা হলো সাইকেল ভাড়া করে দ্বীপ দেখা, চোখে সানগ্লাস পরে সাইকেল চালিয়ে দ্বীপ দেখার মজাই আলাদা।
ছেঁড়া দ্বীপ
সেন্ট-মাটিন গিয়ে ছেড়া দ্বীপ না দেখলে কিছুই দেখা হয়না। সেন্ট-মার্টিনের সবচেয়ে বড় আর্কষন ও বলা যায় এটি। দ্বীপের সর্ব দক্ষিনে একটি ভূ-খন্ড এটি। জোয়ারের পানি আসলে যেটাই যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায় তাই হয়ত এটির নাম ছেঁড়া দ্বীপ। যদি হেঁটে অথবা সাইকেলে যেতে হয় হবে ভোর বেলাতেই বের হতে হবে আর যদি দ্বীপের ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রলার চেপে যেতে হয় তাহলে জন প্রতি ভাড়া পড়বে ৩০০-৫০০ টাকা।
খাওয়া দাওয়া
সেন্ট-মার্টিনে খাওয়া দাওয়ার বৈচিত্র অনেক। যেই হোটেল থাকা হয় সেই হোটেলে খাওয়া যায় কিন্তু কেউ যদি খাবার নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে চায় তবে দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে সামুদ্রিক মাছের ফ্রাই অথবা বার-বি-কিউ পাওয়া যায় যা বেশ মুখোরোচক। আর সেন্ট-মার্টিনের ডাবের পানি অত্যন্ত সুপেয়
দর্শনীয় স্থান
পুরো দ্বীপটিই দেখার মত, নিদিষ্ট দেখার জায়গা বলতে কথা সাহিত্যিক হুসায়ূন আহমেদের বাংলো বাড়ি, ছেড়া দ্বীপ ইত্যাদি। আর সূর্যোদোয় ও সূর্যাস্ত দেখাটাও অসাধারন।
হোটেল এবং থাকার ব্যবস্থা
পুরো পুরি পাকা অবকাঠামোর হোটেল সেন্ট-মার্টিনে কর্ম। তাই কিছু সংখ্যক ভালো মানের হোটেলে থাকতে চাইলে আগে থেকে বুকিং দেয়া যুক্তিসংগত। ভাড়া ১৫০০-৪০০০ মধ্যে সাধারন মানের হোটেল রুম ১০০০-২৫০০ মধ্যে পাওয়া যায়।
কিভাবে যাবেন
ঢাকার আরামবাগ থেকে টেকনাফ গামি বাস পাওয়া যায় এসি, নন-এসি সবরকমই রাতে ছেড়ে ভোরে পৌঁছে টেকনাফ। তারপর টেকনাফ থেকে সেন্ট-মার্টিন যাবার বিভিন্ন জাহাজ ট্রলার আছে। যেটির টিকিট আগে থেকে কেটে রাখাই ভলো।
সামুদ্রিক পাখিদের খুব কাছে থেকে দেখতে চাইলে জাহাজ বা ট্রলারে যাবার সময় অবশ্যই চিপস্ নিতে হবে। উড়ন্ত অবস্থায় পাখিদের চিপস্ খাবার দৃশ্য সারা জীবন মনে রাখার মত।
বাংলাদেশের মজার মজার স্থানগুলো আপনি ঘুরে বেড়াতে চান তাহলে আপনাকে একটি সুন্দর গাইড লাইন নিতে হবে। তাহলে আপনার ভ্রমনটি হবে প্রাণবন্ত ও জীবন্ত। যা আপনাকে দিবে একটি আত্মতৃপ্তি। প্রতিটি মানুষ চাই কর্মের মাঝে একটু সময় বের করে একটি সুন্দর স্থানে ঘুরে আসার জন্য। তাই আমাদের আলোচনায় তাই ছিল। আপনারা নারিকেল জিঞ্জিরাতে ঘুরে আসুন দেখবেন আপনার মন ও ফুরফুরে হয়েছে এমন একটি সুন্দর স্থানে ঘোরার কারণে। আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি আপনারা লেখাটি পড়ে জানতে পেরেছেন কিভাবে নারিকেল জিঞ্জিরাতে ঘুরতে যাবেন।
সংগ্রহে: আনাসটেক বাংলা