আত্মবিশ্বাস-ই হলো সাফল্যের মূলমন্ত্র ꡶ Confidence is the key to success

 

Confidence is the key to success
Confidence is the key to success


আত্মবিশ্বাস-ই হলো সাফল্যের মূলমন্ত্র ꡶ Confidence is the key to success


আসসালামু আলাইকুম

সেদিন পত্রিকায় দেখলাম, একটি ছেলের দুটি হাতই অকেজো। পা দিয়ে লিখে সে তার শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। আমাদের দুটি হাত ও দুটি পা-ও আছে। আমরা হাত ও পায়ের দ্বারা কত কাজই না করতে পারি।

টিভিতে একটা অনুষ্ঠানে দেখলাম, এক মহিলার দুটো হাতই নেই। দুই পা ব্যবহার করে তিনি তার মেয়ের চুল বেঁধে দেন। এমনকি তিনি নাচতেও জানেন। কি মোহনীয় তার মুদ্রা, কত মনোমুগ্ধকর তার চাহনি।

যখন ঢাকায় বসবাস করতাম, দেখতাম এক শ্রমিককে যার এক পা নেই, সড়ক দুর্ঘটনায় তার এক পা কাটা পড়ে। অথচ, লাঠি নিয়ে তিনি একটা স্বাভাবিক মানুষের চাইতেও অনেক দ্রæত হাঁটতে পারেন। তিনি সেই অবস্থায় বালির বস্তা টানতেন।

স্টিফেন হকিংস হুইল চেয়ারে বসে দুরারোগ্য ব্যাধির কবলে পড়ে কোনো অঙ্গ নড়াচড়া করার ক্ষমতা হারিয়েও পদার্থবিজ্ঞানের বিস্ময়কর সমস্ত গবেষণা করে গেছেন। যারা বড় হয়েছেন তাঁরা তাদের যতটুক সামর্থ্য আছে, তাকেই কাজে লাগিয়ে বড় হয়েছেন। যার মূলে ছিল দৃঢ় আত্মবিশ্বাস। এ রকম অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে আত্মবিশ্বাসের। প্রচন্ড বিশ্বাস যখন থাকে মনের মধ্যে ‘আমি পারব’, তখন সবকিছুই সম্ভব। আমরা ভেতরের আত্মশক্তিকে জাগিয়ে জগৎ-সংসারের অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারি।

স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন- দুঃখের মুকুট পরে সুখ আমাদের সামনে হাজির হয়। যদি থাকে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস, কাজে ন্যায়নিষ্ঠা, ভক্তি তাহলে চরম শত্রুকেও জয় করা সম্ভব। 

আধুনিক যুগে কম্পিউটারের ব্যবহার যে মানবসভ্যতাকে কতটা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তা কয়েক বছর আগেও  কল্পনা করা যেতনা। ইন্টরনেটের অফুরন্ত তথ্য ভান্ডার পৃথিবীর সভ্যতার প্রকৃতিকেই পাল্টে দিয়েছে। কিন্তু দেখতে ভালো লাগে এমন কোনো বিষয়ে যদি আমরা আসক্ত হয়ে পড়ি, পরিণামে দু:খ আসবে।

আজকাল বাবা-মায়ের সচেতনতার অভাব নেই। তার এতটাই সন্তানদের প্রতি দুর্বল যে, তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে মোবাইল ফোন, ট্যাব এমনকি ল্যাপটপের মতো আধুনিক আবিষ্কার। যার ব্যবহার শিশুবয়স থেকে কৈশরপর্যন্ত। অথচ, সেইবাবা-মা নিজেরাই জানেননা আবেগের বশে তারা তার সন্তানের কতটা ক্ষতি করছেন। আজকাল শিশুরা যে কিনা আক্ষরিক জ্ঞান ঠিকমতো আয়ত্ত করতে পারিনি, সে অনায়াসে মোবাইল, ট্যাব বা কম্পিউটাওে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। ব্যবহার করছে ইন্টারনেটের এডাল্ট বিষয়গুলো যা কিনা শিশু থেকে কৈশর পর্যন্ত পুরোপুরি নিষিদ্ধ। অজানাকে জানতে গিয়ে তারা নীতি-নৈতিকতা থেকে ছিটকে পড়ছে। এখানেও দেখা যাচ্ছে আত্মবিশ্বাসের অভাব।

পাহাড়ের উপর থেকে পড়ে যাওয়া খুব সহজ। কিন্তু পাহাড়ের উপর ওঠা কঠিন। এই কঠিন পথকে জয় করতে হলে চাই দৃঢ় মনোবল, আত্মবিশ্বাস ও অসীম সাহসিকতা। জীবনে ভালোভাবে বাঁচতে হলে ছোটবেলা থেকেই আত্মপ্রত্যয়ী হতে হবে।

ছাত্রজীবন হলো জীবন গড়ার উপযুক্ত সময়। একজন ছাত্র তার শৈশব থেকে যদি আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে ওঠে, যদি তার ভাবনা চিন্তায় থাকে ‘একবার না পারিলে দেখ শতবার, পারিব না বলে মুখ করিও না ভার’ তবেই সে তার আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠবে, হয়ে উঠবে মানুষ গড়ার কারিগর।

আত্মবিশ্বা মানুষের মনের মনোশক্তি যা মানুষের প্রতিনিয়ত তার জীবনের প্রতিটি কর্মের মধ্যে ফুটে তুলতে থাকে। যা তাকে কর্মের ক্ষেত্রে উন্নতি সাধন করতে থাকে। তাই প্রতিটি মানুষ আত্মবিশ্বাসকে ফুটিয়ে তুলুক এই আশা কামনা করি। 


 সংগ্রহে: আনাসটেক বাংলা

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url