শিশুকাল থেকে বই হোক নিত্যসঙ্গী ꡶ Let books be a constant companion from childhood
![]() |
Let books be a constant companion from childhood |
শিশুকাল থেকে বই হোক নিত্যসঙ্গী ꡶ Let books be a constant companion from childhood
আসসালামু আলাইকুম
বই মানুষের পরম বন্ধু। ছোটোবেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। পবিত্র কুরআনের প্রথম শব্দ ‘ইকরা’ অর্থ-পড়। জ্ঞানার্জনের প্রধান বাহন হল বই। শুধু পাঠ্যসূচির কয়েকটি বই পড়ে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রিতে জ্ঞানের পূর্ণতা অর্জন করা যায় না। এজন্য বহুমুখী প্রতিভা অর্জন ও বিচিত্র জ্ঞানের জন্য নানা ধরনের বই পড়তে হয়। বাবা-মা এবং শিক্ষক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব শিশুকাল থেকেই সন্তানকে বই পড়ায় আগ্রহী করে তোলা। সপ্তদশ শতকের দার্শনিক বারুখ স্পিনোজা বলেন, ভালো খাদ্যবস্তুতে পেট ভরে কিন্তু ভালো বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করে। জীবনে বড় হতে হলে ভালো বইকে বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো নিত্যসঙ্গী করতে হবে। এজন্য মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীকে ভালোমানের বই উপহার দেওয়া যেতে পারে। সন্তান কোন ধরনের বই পড়ছে শিক্ষক এবং বাবা-মাকে সে বিষয়ে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। বয়সভেদে তাদের জন্য বই নির্বাচন করে দেওয়া জরুরি।
আমরা যদি বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের দিকে ফিরে তাকাই তাহলে দেখতে পাবো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবনানন্দ দাশ এঁরা ছেলেবেলা থেকেই সাহিত্যের আবহের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছিল। তাই আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব শিক্ষার্থীকে বই পড়তে উৎসুক করে তোলা সুস্থ, সুন্দর ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। বই মানুষের মনকে বড় করে তোলে। ছেলেমেয়েদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠলে পারিপার্শ্বিক অন্যায়-পাপাচার থেকে সমাজকে মুক্ত রাখা সম্ভব হবে। ছেলেমেয়েরা যদি বইয়ের নেশায় ডুবে থাকে তবে ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, গেমস ইত্যাদি নিয়ে দীর্ঘ সময় কাটাবে না। বরং বই পড়ে সে সুন্দর জীবনের অধিকারী হবে। জ্ঞানার্জন করে জ্ঞানের আলোর স্ফুলিঙ্গে আলোকিত করবে নিজেকে ও দেশকে। পাশাপাশি একজন সৎ, ন্যায়পরায়ণ, যুক্তিবাদী, আত্মপ্রত্যয়ী, পরোপরকারী ও দেশপ্রেমিক হিসেবে সমাজের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে। বিপদের বন্ধু হিসেবে একমাত্র বইকে সে সঙ্গী হিসেবে পাবে। জীবনের কঠিন সময়ে হাতিয়ার হবে বিভিন্ন বইয়ের দিক নির্দেশনা। যুক্তিতর্ক, বিচার-বিবেচনা ও মানবতাবোধে জাগ্রত হবে কোমল হৃদয়।
বাংলা সাহিত্যের কিছু চরিত্র ও ঘটনা আজও আমাদের হৃদয়কে নাড়া দেয়, পুলকিত করে, কখনও বা বিদগ্ধ করে। ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের অপু-দুর্গার সহজ সরল গ্রামীণ জীবন ও তাদের দুঃখ-কষ্ট আজও পাঠক হৃদয়কে প্রতিনিয়ত কাঁদিয়ে তোলে। শিশু মনে তৈরি হয় ভ্রাতৃত্ববোধ, সম্পর্কের অগাধ টান এবং সহজ, সরল জীবনের প্রতি ভালোবাসা। পাঠক মনে জন্ম নেয় আবেগের ঘনঘটা। তেমনি ‘ছুটি’ গল্প পড়ার মাধ্যমেও পাঠক হিসেবে শিক্ষার্থীর মনে প্রকৃতিপ্রেম ও মানবতার জয়ধারা সূচিত হয়। বই না পড়লে মানুষের ভিতর মানবিকতাবোধ, দায়িত্ববোধ, মমত্ববোধ জন্ম নেয় না। তৈরি হয় না আবেগ, অনুভূতি ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার। একমাত্র বই-ই পারে মানুষের ভিতর ভালোবাসা তৈরি করতে। মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে বই পড়ার বিকল্প নেই।
পল্লীকবি জসীম উদ্দীন বলেছেন, বই-ই জ্ঞানের প্রতীক, বই আনন্দের প্রতীক।
বই পাঠ অনাবিল এক আনন্দের বিষয়। বই সুখের সময় মানুষের পাশে থাকে, দুঃখের সময় মনোবল বাড়াতে সাহায্য করে। এসব বিচার বিবেচনা করলে দেখা যায় একজন আদর্শবান মানুষ হতে হলে শিক্ষার্থীকে অবশ্যই বেশি বেশি বই পড়তে হবে। বইকে সারথি করেই আমাদের আগামীর পথচলা সুগম হোক। বই হোক আমাদের পথ চলার পাথেয়। শিশুকাল থেকে বই হোক আমাদের নিত্যসঙ্গী।
সংগ্রহে: আনাসটেক বাংলা